বর্তমানে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনাকারী বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হবে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর পর ১৪ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে বিনিয়োগকারীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনো শক্তিশালী এবং নিয়মিত বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে ব্ল্যাকরক, স্টেট স্ট্রিট ও লম্বার্ড ওডিয়ারের মতো আর্থিক খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ সংকটকালেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক। সংস্থাটি বর্তমানে ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছে। পাশাপাশি ব্ল্যাকরক মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের অন্যতম ‘কোর স্ট্র্যাটেজিক প্রায়োরিটি’ বা প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ও গ্রাহকদের সহায়তা দেয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যকে বৈশ্বিক পুঁজিপ্রবাহের একটি ‘দ্বিমুখী প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বিবেচনা করে। গত বছরের নভেম্বরে আবুধাবির এডিজিএম থেকে বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার পর ব্ল্যাকরক দ্রুত সেখানে নিজেদের জনবল ও সেবা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে।
বস্টনভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা স্টেট স্ট্রিটের অধীনে রয়েছে ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ। সংস্থাটিও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনেনি। প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের বিনিয়োগ কৌশল প্রধান কারিন খেইরাল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ করার দৃঢ় সংকল্পে কোনো প্রভাব ফেলেনি। আমরা নিজেদের উপস্থিতি ও সক্ষমতা আরো বাড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।’
এছাড়া পিজিআইএম, নুভিন ও সুইস ব্যাংক লম্বার্ড ওডিয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই বর্তমানে বৈশ্বিক হেজ ফান্ড এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর জন্য পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। আমিরাতে অবস্থান করলে আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, মুবাদালা ও নবগঠিত এল-ইমাদের মতো বিশ্বের বৃহত্তম সার্বভৌম বিনিয়োগ তহবিলের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে। এছাড়া ২০২০ সালের কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী মন্দা কাটিয়ে দুবাই ও আবুধাবি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজেদের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি গত বছর দুবাইয়ের ডিআইএফসিতে রেকর্ড ১ হাজার ৯২৪টি নতুন কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। বর্তমানে সেখানে ৩০০টির বেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ১ হাজার ২০০-এর বেশি পরিবারভিত্তিক ব্যবসায়িক সত্তা রয়েছে।
এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন, ভ্রমণ এবং হসপিটালিটি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও বড় ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। গত ৩১ মার্চ আবুধাবির কোম্পানি ‘২ পয়েন্ট জিরো’-কে ২২৫ কোটি ডলারে কেনার ঘোষণা দিয়েছে একটি মার্কিন গ্যাস অবকাঠামো কোম্পানি। একইভাবে সৌদি আরবের পিআইএফ ও কাতারের সার্বভৌম তহবিলও গত মাসে একাধিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করেছে।